Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the newsmatic domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/boichitrojibon/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131
পরিচ্ছন্ন রাখুন রান্নাঘর – BoichitroJibon

পরিচ্ছন্ন রাখুন রান্নাঘর

একটি বাসার সবচেয়ে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন স্থান থাকা উচিত রান্নাঘর। কেননা এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরো পরিবারের স্বাস্থ্য ও সুন্দর জীবন যাপন। আসলে রান্নাঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা পরিবারের প্রতিটি সদস্যের প্রধান ও অন্যতম দায়িত্ব। কাজটি জটিল মনে হলেও একেবারেই তা নয়। তবে রান্নাঘর বলতে শুধু মেঝে, দেয়াল বা চুলা নয়—পরিষ্কার রাখতে হবে তা নয়, তৈজসপত্র এমনকি ন্যাপকিনের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
সিংক : রান্নাঘরের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় স্থান হচ্ছে সিংক। রান্নার আগে বা পরে সব সময় সিংক ব্যবহার করা হয়। তাই যে কোনো কাজের পর সিংক পরিষ্কার রাখতে হবে। গুঁড়া সাবান বা লিকুইড সোপ দিয়ে ভালোভাবে সিংক পরিষ্কার করতে হবে। মাছ-মাংস বা তেল-চর্বিজাতীয় দ্রব্য ধোয়ার পর সামান্য গরম পানিতে গুঁড়া সাবান মিশিয়ে সিংক ও তার আশপাশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। সম্ভব হলে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন। এতে সিংকে মরচে ধরার সম্ভাবনা থাকবে না।
অনেক বাসায় বাসন-কোশন, সবজি ধোয়ার কাজ হয় নিচু স্থানে। এক্ষেত্রে কাজ শেষে কলতলা ভালোভাবে ধুয়ে রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল লিকুইড দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করে গরম পানি ঢালুন। কেননা এমন নিচু স্থানে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ দ্রুত হয়। আর এসব পোকা-মাকড় সহজেই খাদ্যদ্রব্যে রোগজীবাণু ছড়ায়। আর সম্ভব হলে নিচু স্থানে খাদ্য সামগ্রী ধোয়ার কাজ না করাই ভালো।
রান্নাঘরের পানি বের হওয়ার নালা সব সময় পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখুন। কেননা এটি অপরিষ্কার থাকলে পানি জমে রান্নাঘরের সিংক বা কলতলা অপরিষ্কার থাকবে। পরিণামে বাসা বাঁধবে রোগবালাই। তাই পানি জমে থাকে এমন স্থান সব সময় মুছে রাখুন। আর পানি জমলে রান্নাঘর দুর্গন্ধ হয়ে যাবে।
আলো-বাতাসের পর্যাপ্ততা : রান্নাঘরে যেন পর্যাপ্ত আলো-বাতাস থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কেননা প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া আলো-বাতাসে রান্নাঘরের প্রতিটি জিনিস ভালো থাকে। তবে খাবার রাখার স্থানে সরাসরি রোদের আলো না লাগাই ভালো। এতে খাবার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমন ক্ষেত্রে রান্নাঘরের জানালায় অর্ধেক করে পর্দা লাগাতে পারেন। এছাড়া রান্নাঘরের এককোনায় রেখে দিন ইনডোর প্লান্ট। এতে ঘরের অক্সিজেনের ঘাটতিও দূর হবে। দেখতেও ভালো লাগবে।
মেঝে ও দেয়াল : কাটাকুটির পর অবশ্যই আবর্জনা পরিষ্কার করে ফেলুন। যারা মেঝেতে বসে কাটাকুটি করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তাদের জন্য বাড়তি ঝামেলা হলো সবজির খোসা পরিষ্কার করা। এখন বাজারে নানা আকৃতির প্লাস্টিকের পণ্য পাওয়া যায় যার ওপর রেখে অনায়াসে কাটাকুটি করা যায়। এতে মাটি থেকে সবজির খোসা তোলার ঝামেলা থাকে না। আর যারা চপিং বোর্ড ব্যবহার করেন সেক্ষেত্রেও সবজি বা যে কোনো কিছু কাটলে অনেক সময় দেয়ালে দাগ লাগার সম্ভাবনা থাকে। তাই কাটাকুটির ঝামেলা শেষ করার পর অবশ্যই মেঝে ও দেয়াল ভালোভাবে মুছে নিন। মাঝে মাঝে ভিনেগার দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করলে তা চকচকে থাকবে। আজকাল বেশিরভাগ বাসায় রান্নাঘরের দেয়াল ও মেঝে টাইলসের। এক্ষেত্রে পরিষ্কার করার জন্য বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হবে না।
পোকা মাকড়ের উপদ্রব : এ থেকে রান্নাঘরকে মুক্ত রাখতে ঘরের এক কোনায় তুলসি পাতার গাছ রাখতে পারেন, এতে মশা-মাছির উপদ্রব কম হবে। তেলাপোকা শুধু যে অস্বস্তিকর তা নয়, এটি একই সঙ্গে জীবাণু বহনকারীও। তাই সিংক বা মেঝে পরিষ্কারের পাশাপাশি মাঝে মাঝে তেলাপোকা মারার ওষুধ ব্যবহার করুন। বাজারে অনেক ধরনের তেলাপোকার ওষুধ পাওয়া যায়। এসব ব্যবহারের পাশাপাশি ফুটন্ত গরম পানিতে কাপড় কাচার সোডা মিশিয়ে নালায় ঢালুন। তেলাপোকা মরে যাবে।
পিঁপড়ার যেন সবচেয়ে পছন্দের স্থান রান্নাঘর। সেক্ষেত্রে চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার যেন না পড়ে থাকে সেজন্য এসব খাবারের কনটেইনার শক্ত করে লাগিয়ে রাখতে হবে।
ফ্রিজ : মাসে একবার ফ্রিজ পরিষ্কার করুন। মাছ-মাংস বা যে কোনো খাবার দীর্ঘদিন সংরক্ষণ রাখতে প্লাস্টিকের ব্যাগে না রেখে বরং বক্সে করে রাখলে ভালো হয়। এতে খাবারের গুণগত মান ঠিক থাকে। তবে ফুড গ্রেইন ব্যাগেও রাখতে পারেন। ফ্রিজ দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে এক টুকরো লেবু কেটে ফ্রিজে রেখে দিন। এছাড়া আদা, রসুন ও পেঁয়াজের মতো মসলা বক্সে ভরে রাখলে ফ্রিজে দুর্গন্ধ হবে না। ফ্রিজে কোনো খাবারই খোলা রাখবেন না। এতে খাদ্যে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটতে পারে।
হোম অ্যাপ্লিকেশন্স ব্যবহারের পর অবশ্যই তা পরিষ্কার করে ভালোভাবে মুছে তুলে রাখুন। অনেকে ওভেন ব্যবহারের পর সময় স্বল্পতার দোহাই দিয়ে যাচ্ছেতাই করে রাখে। এটি উচিত নয়। এসব পণ্য মোছার জন্য লিকুইড ক্লিনার ব্যবহার করুন। ইলেকট্রিক পণ্য মোছার কাজে পানি ব্যবহার না করাই ভালো।
পানির ফিল্টার অত্যন্ত দরকারী একটি পণ্য। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ফিল্টারের উপরিভাগ পরিষ্কার করুন। পরিষ্কারের পর বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। আর ফিল্টারটি মাসে দু’বার পরিষ্কার করুন। তবে যেসব এলাকায় পানিতে আয়রনের মাত্রা বেশি, সেক্ষেত্রে মাসে চারবার ফিল্টার পরিষ্কার করুন। আর ছয় মাস পর ফিল্টার বদল করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.