রেফ্রিজারেটর এখন গৃহসামগ্রীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু সঠিকভাবে ব্যবহার ও সংরক্ষণ জানা না থাকায় অনেক সময় নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাই জেনে নিন রেফ্রিজারেটরের নানা ব্যবহার।
ফল বা সবজি
*ফল বা সবজি ভালো করে ধুয়ে রেফ্রিজারেটরে রাখুন। তবে আলু, পেঁয়াজ ও রসুন কখনোই রেফ্রিজারেটরে রাখবেন না। আলাদা করে কাগজের ঠোঙায় ভরে রান্নাঘরের শুকনো স্থানে রাখুন।
*কুচানো বা কাটা সবজি প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে বা বায়ুরোধক বাঙ্ে ভরে রেফ্রিজারেটরে রাখুন। খেয়াল রাখবেন, ব্যাগের মুখ যেন ভালোভাবে আটকানো থাকে। এতে সবজির আর্দ্রতা ও পুষ্টিগুণ ঠিক থাকবে।
*কাঁচামরিচ বোঁটা ফেলে বায়ুরোধক ব্যাগে ভালো করে মুখ আটকে রাখুন। টমেটো একইভাবে রাখুন, নয়তো নষ্ট হয়ে যাবে।
*ধনেপাতা, পেঁয়াজ পাতা, লেটুস পাতার গোড়ার অংশ কেটে প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখুন। শুকাবে না।
*রেফ্রিজারেটরের ভেতর ফল বা সবজি একসঙ্গে না রেখে সব সময় আলাদা রাখুন। আপেল এবং অন্য ফল থেকে ইথানল নামক গ্যাস বের হয়ে অন্য সবজি পাকিয়ে ফেলে। একই কারণে টমেটো বা শসাও একসঙ্গে রাখবেন না।
*ফল বা তরকারি কখনোই রেফ্রিজারেটরে ডিপ চেম্বারে রাখবেন না। স্বাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
মাছ, মাংস ও ডিম
*রেফ্রিজারেটরে ডিম সাজিয়ে রাখার সময় এর সুচালো দিকটা নিচের দিকে রাখুন। এতে বেশি দিন ভালো থাকবে।
*মুরগি বা গরুর মাংস কিমা রেফ্রিজারেটরে রাখার সময় বায়ুরোধক ব্যাগে রাখুন। বের করার পর দ্রুত স্বাভাবিক হবে।
রান্না করা খাবার
*ভাত রেফ্রিজারেটরে রাখার সময় একটা সেঁকা পাউরুটি ভাতের ওপর রাখুন। তাজা থাকবে।
*অর্ধেক রান্না করা খাবার রেফ্রিজারেটরে রাখার সময় অবশ্যই জিপড ব্যাগ ব্যবহার করবেন না।
*ডাল, তরকারি, মাছ ও মাংস যা-ই রেফ্রিজারেটরে রাখুন না কেন, ছড়ানো অবস্থায় বা বড় পাত্রে না রেখে ছোট বায়ুরোধক পাত্রে রাখুন। এতে খাবারে জীবাণুর আক্রমণ হবে না।
*রান্না করা খাসির মাংস, মুরগি বা সামুদ্রিক খাবার বেশি সময়ের জন্য রেফ্রিজারেটরে রাখতে হলে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল বা বায়ুরোধক প্লাস্টিক বাঙ্ে রাখুন।
*খাবার গরম অবস্থায় কখনোই রেফ্রিজারেটরে রাখবেন না। ফ্যানের নিচে রেখে তাপমাত্রা স্বাভাবিক করে তবেই রেফ্রিজারেটরে রাখুন।
*রেফ্রিজারেটরের ওপরের তাকে রান্না করা খাবার রাখুন। কখনোই ডিপ চেম্বারে রাখবেন না।
*কয়েক টুকরো আপেল কেটে কেকের বাঙ্রে ওপর রেখে রেফ্রিজারেটরের সাধারণ তাপমাত্রায় কেক রাখুন নরম হবে না। টুকরো আপেল বাড়তি আর্দ্রতা শুষে নেবে।
*বাড়িতে তৈরি ডেজার্ট এবং সালাদ রেফ্রিজারেটরের ডিপ চেম্বারের তাপমাত্রা একটু কমিয়ে স্টোর করুন।
*আইসক্রিম ব্লক সমান করে কেটে তার ওপর ওয়্যাঙ্ পেপার বিছিয়ে কার্টনে বন্ধ করে ডিপফ্রিজে রাখুন।
*তেল, পাস্তা, আটার রুটি ও সিরিয়াল রেফ্রিজারেটরে কখনোই রাখবেন না।
থয়িং পদ্ধতি
ঠাণ্ডায় জমে থাকা খাবার গলিয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় নিয়ে আসার পদ্ধতিকে বলে থয়িং। রেফ্রিজারেটরে জমে থাকা খাবার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসে বা ওভেনে দেবেন না।
*জমে থাকা খাবার রেফ্রিজারেটর থেকে বের করে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। একটা জিপলক ব্যাগে ভরে পানিতে ডুবিয়ে রাখুন। তবে খেয়াল রাখুন প্রতি আধঘণ্টা পর ব্যাগে জমে ওঠা বরফ গলা পানি বদলে দিন।
*মাইক্রোওভেনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় গিয়ে খাবার গরম করতে পারেন। সেক্ষেত্রে মাইক্রোওয়েভ প্রুফ পাত্রটা ওভেনের গা থেকে অন্তত ২ ইঞ্চি দূরে রাখুন, যাতে হিট সার্কুলেশন ভালো হয়।
*থয়িংয়ের পর খাবার ফেলে না রেখে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রান্না করে ফেলুন। বরফ গলে যাওয়ার পর কাঁচা খাবার ঠাণ্ডা করার জন্য আর রেফ্রিজারেটরে ঢোকাবেন না। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে।
হিটিং পদ্ধতি
*রান্না করা খাবার রেফ্রিজারেটর থেকে বের করার পর একবারই গরম করুন। বারবার একই খাবার গরম ও ঠাণ্ডা করলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
*রেফ্রিজারেটর থেকে খাবার বের করার দুই ঘণ্টার মধ্যে গরম করুন। কিন্তু সেই খাবার আর রেফ্রিজারেটরে রাখবেন না।
*রেফ্রিজারেটর থেকে বের করা খাবার ভালো করে গরম করুন। গরম করা খাবার ফেলে না রেখে চটপট খেয়ে ফেলুন।
রক্ষণাবেক্ষণ টিপস
* যেসব রেফ্রিজারেটরে অটোমেটিক ডিফ্রস্টিং সিস্টেম নেই, সেখানে ৪ ভাগের ১ ইঞ্চি বরফ জমলেই সঙ্গে সঙ্গে ডিফ্রস্ট করুন।
* সপ্তাহে এক দিন রেফ্রিজারেটরের ভেতর পরিষ্কার করুন। যেদিন রেফ্রিজারেটরে অল্প খাবার থাকবে সেদিনটাই বেছে নিন।
* ক্লিনিং লিকুইড স্প্রে এবং শুকনো স্পঞ্জ দিয়ে রেফ্রিজারেটরের ভেতরটা মুছে নিন।
* মাসে একবার রেফ্রিজারেটরের দরজার সিল পরীক্ষা করুন। নিয়মিত সিল পরিষ্কার করুন। যদি কোথাও চিড় দেখা দেয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে মেকানিক ডাকুন।
* বছরে একবার ইলেকট্রিক কানেকশন অফ করে রেফ্রিজারেটরের পেছনে বা নিচে থাকা কয়েল পরীক্ষা করুন। ভ্যাকুয়াম ক্লিনার বা নরম ঝাড়ন দিয়ে কয়েলে লেগে থাকা ধুলো-ময়লা পরিষ্কার করুন।
* অনেক সময় কার্টনে ভরা দুধ, ডেইরি প্রডাক্ট বা অন্যান্য খাবার প্যাকেটের গায়ে স্টোর তাপমাত্রা লেখা থাকে। সেই তাপমাত্রা অনুযায়ী খাবার ডিপফ্রিজার বা রেফ্রিজারেটরে অন্য অংশে রাখুন।
* পাওয়ার কাটের সময় যতটা কম পারেন রেফ্রিজারেটরের দরজা খুলুন। ছয় ঘণ্টার বেশি ইলেকট্রিসিটি না থাকলে মাছ, মাংস, দুধ (যা সহজে নষ্ট হয়) ব্যবহার করে ফেলুন।