স্থূল জগতে তিনটি নদীর সঙ্গমস্থানকে ত্রিবেণী বলে। যথা-গঙ্গা, পদ্মা, যমুনা যেই স্থানে মিলিত হইয়াছে, সেই সংগম স্থানের নাম ত্রিবেণী। উহা হিন্দুদের তীর্থস্থান। বাত্সরিক গঙ্গাস্নানার্থে হাজার হাজার লোকের সমাবেশ হয়। তাঁহাদের মতে গত বত্সর ধরিয়া যাহা পাপ করিয়াছি, এই ত্রিবেণী নীরে গোসল করিলে সমুদয় পাপের কালিমা বিধৌত হইয়া পবিত্র চিত্ত হইয়া যায়।
সকাল, সন্ধ্যা ও নিশি। সূর্য উদয়ের এক ঘণ্টা পূর্ব হইতে অর্ধেক ঘণ্টা পর পর্যন্ত জ্ঞানীগণ উহাকে সকাল ধরেন। সময়টা বড়ই মনোরম। কারণ খানিক নিদ্রা যাওয়ার পর শরীরের একটু সুসুস্থি লাভ করিয়াছে। খাদ্যদ্রব্য জীর্ণ হইয়া শরীর পাতলা ও হালকা হইয়াছে। কয়েকটি এবাদতী বান্দার সাড়া ব্যতীত জনমানবের সাড়া কম। দিনের হট্টগোলে এখনও যাওয়া হয় নাই বলিয়া সাংসারিক বিষয় আশয়ের চিন্তা মনে সম্পূর্ণ আবির্ভাব হয় নাই। কাজেই মন প্রফুল্ল স্বত্বগুণ ভাবাপন্ন আছে ঠিক এমতাবস্থায় সাধক শয্যাত্যাগকরতঃ নিজ অভ্যাসিত আসনে উপবেশন করিয়া গুরুর দাতব্য আপন আরাধ্য পরম বস্তুর ধ্যানে মগ্ন হইবেন। তাহা সূর্য উদয়ের পর পর্যন্ত।