আমলকীতে রয়েছে ভিটামিন সি,ডায়েটারি ফাইবার, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ক্যারোটিন, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট। এইসব উপাদান আমাদের শরীরের জন্য দারুন উপকারী। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ আমলকীতে রয়েছে প্রচুর পরিমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
আমলকী এক প্রকার ভেষজ ফল। আমলকী গাছের উচ্চতা ৮-১৮ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাতা ২ ইঞ্চি লম্বা হয় আর পাতার রঙ হালকা সবুজ। আমলকী ফল গোলাকৃতি, রঙ হালকা সবুজ। বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই আমলকীর গাছ দেখতে পাওয়া যায়। গাছের বয়স ৪-৫ বছর হলেই গাছ থেকে ফল পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা , মালয়শিয়া ও চীনে আমলকী পাওয়া যায়।
বিভিন্ন অসুখ সারানো ছাড়াও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে আমলকী দারুন সাহায্য করে। আমলকী অ্যানিমিয়া, জ্বর, ইনসমেনিয়া, বদহজম ও ইউরিনের নানা সমস্যা সারাতে জাদুর মতো কাজ করে। আমলকীর নানা গুনের কারনে আয়ুর্বেদিক ওষুধেও আমলকীর নির্যাস ব্যবহার করা হয়।
আমলকীর বিভিন্ন গুন সম্পর্কে আমরা তেমন জানি না । অথচ সুস্থ থাকার জন্য দৈনিক আমলকী খাওয়া খুব উপকারী। আসুন জেনে নেয়া যাক আমলকীর নানামুখী আয়ুর্বেদিক গুনাগুন সম্পর্কে।
*** আমলকীতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি, আর ভিটামিন সি মানব শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। এছাড়া ভিটামিন সি বিভিন্ন ক্ষত সারাতেও ভূমিকা রাখে।
*** আমলকী হজমে সাহায্য করে।
*** আমলকী লিভার ভালো রাখতে সহায়তা করে।
*** আমলকী ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
*** আমলকী হার্ট সুস্থ রাখে, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে তোলে ।
*** আমলকী ত্বক, চুল ও চোখ ভাল রাখার জন্য খুব উপকারী ।
*** আমলকী মানব শরীরের ফারটিলিটি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে ।
*** শরীরের অতিরিক্ত টক্সিন বের করে দিয়ে শরীরকে ঠান্ডা রাখে।
*** আমলকী শরীরের লোহিত রক্ত কনিকার সংখ্যা বাড়িয়ে তুলে দাঁত ও নখ ভালো রাখে।
*** আমলকী খিদে বাড়াতে সাহায্য করে। আমলকীর গুঁড়ার সাথে মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেলে উপকার পাবেন।
*** আমলকীর জুসে সামান জয়িত্রী গুঁড়া মিশিয়ে খেলে অনিদ্রা সমস্যা দূর হয়।
*** এক গ্লাস পানিতে আমলকী গুঁড়া ও চিনি মিশিয়ে দিনে দুইবার খাবেন, পেটে গ্যাসের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। খাবারের সাথে আমলকীর আচার খেতে পারেন, হজমে সাহায্য করবে ।