প্রি-একলাম্পশিয়া কি? এটা কেন হ্য় ? এটা হওয়ার কারণ তা সম্পর্ক জানার খুব দরকার পর্তিতা গর্ভতি মায়ের৷
প্রি-একলাম্পশিয়া গর্ভধারণের ২০ সপ্তাহ অর্থাত্ ৫ মাস পর থেকে দেখা দেয়৷
কারণ
* একবার প্রি-একলাম্পশিয়া হলে
* প্রি-একলাম্পশিয়া পরিবারে কারো হলে
* পরিবারে কারো উচ্চ রক্তচাপ থাকলে
* যাঁরা বেশি বয়সে মা হন তাদের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে
লক্ষণ
* রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া৷ রক্তচাপ সাধারণত ১৪০/ঌ০ (মিলিমিটার) এর বেশি থাকে
* প্রস্রাবের সাথে প্রোটিন (আমিষ) জাতীয় পদার্থ শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়া
* হাত-পায়ে পানি আসা
* অনিদ্রা
* চোখে ঝাপসা দেখা
* উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং নেফ্রাইটিস রোগীদের
* অসহ্য মাথা ব্যথা
* খিঁচুনি
*অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে (প্রসবের সময়, আগে এবং পরে)
*প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
*বার বার বমি
*পেটের উপর দিকে অসহ্য ব্যথা
*শরীরে ওজন বাড়তে থাকে
* পেটে ব্যথা
* প্রি-একলাম্পসিয়া হওয়ার শুরুতেই শরীরে ওজন বাড়তে থাকে
* সপ্তাহে আধা কেজি ওজন বৃদ্ধি পায়
চিকিৎসা
* প্রি-একলাম্পশিয়া আক্রান্ত রোগীকে নিয়মিত চেকআপ করানো দরকার
* খাবারের সঙ্গে আলাদা লবণ খাওয়া বন্ধ করতে হবে
* প্রোটিন এবং ক্যালোরি যুক্ত খাবার খেতে হবে
* পুষ্টিকর নরম খাবার খেতে হবে
* রাতে গড়ে ৮ ঘণ্টা এবং দিনে ২ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে
* পা ফুলে গেলে পা দুটো বালিশের উপর উঁচু করে রেখে ঘুমাতে হবে
* ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঘুমের ওষুধ এবং প্রেসারের ওষুধ খেতে হবে
* রক্তচাপ, ওজনের চার্ট তৈরি করতে হবে
* প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন যাচ্ছে কি না তার চার্ট করতে হবে
* বাচ্চার অবস্থাও বারবার দেখতে হবে
* প্রয়োজনে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে
সঠিক সময়ে চিকিত্সা না করালে নিম্নলিখিত সমস্যা হতে পারে
মায়ের সমস্যা
* প্রস্রাব না হওয়া অথবা অল্প হওয়া
* চোখে কম দেখা এমনকি অন্ধ হয়ে যাওয়া
* বাচ্চা প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়া
* একলাম্পশিয়া বা খিঁচুনি হওয়া
শিশুর সমস্যা
* বাচ্চা মাতৃগর্ভে মারা যেতে পারে
* বাচ্চার বৃদ্ধি ঠিকমত হবে না
* জণ্মের সময় শ্বাসকষ্ট হবে
প্রতিরোধ
* গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত প্রসবপূর্ব চেক-আপের ব্যবস্থা করা
* গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টিকর খাবার ও বিশ্রাম নিশ্চিত করা
প্রসবপূর্ব চেক-আপের সময় শারীরিক ওজন ও রক্তচাপ, পায়ে পানি আসে কিনা, প্রস্রাবে এলবুমিন যায় কিনা এগুলো পরীক্ষা করা উচিত৷
ল্যাব পরীক্ষা
* প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা
* ২৪ ঘণ্টায় প্রস্রাবের প্রোটিন পরীক্ষা
* রক্তে ইউরিয়া, ইউরিক এ্যাসিড এবং ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ দেখা
* এসজিপিটি পরীক্ষা
* পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে বাচ্চার অবস্থা দেখা৷