খাদ্যাভাস্যের মাধ্যমে ত্বকের লাবণ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ভিটামিন এ বা বিটা ক্যারোটিন ত্বকের জন্য অত্যন্ত জরুরি উপাদান। রঙিন সবজি ও ফলে থাকে বিটা ক্যারোটিন। এ ছাড়া ব্রণের চিকিৎসায় ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট দেয়া হয়। বাকি দু’টি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অর্থাৎ ভিটামিন-সি ও ভিটামিন-ই জরুরি উপাদান ত্বকের জন্য। ভিটামিন-ই ত্বকের বলিরেখা দূর করে। এমনকি দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বকে বলিরেখা পড়তে দেয় না। প্রতিদিন ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ই আমাদের প্রয়োজন। রূপ-লাবণ্য ধরে রাখতে ভিটামিন-সি’রও তুলনা নেই। কাঁচা সবজি ও টক ফলে পাবেন ভিটামিন- সি। প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি আমাদের প্রয়োজন। কিছু মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ত্বকের জন্য উপকারী। এর মাঝে রয়েছে সিলিকন, সেলেনিয়াম ও কপার। সিলিকন ত্বক কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের জন্য সিলিকন প্রয়োজন। সিলিকন সবজি, খাদ্যশস্য ও সামুদ্রিক মাছে পাওয়া যায়। এ ছাড়া কপার ত্বকের কোলাজেন, ইলাস্টিন ও মেলানিন তৈরিতে সহায়তা করে বলে কপারও ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয়। আর সেলেনিয়াম অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে ও রোদে পোড়া ত্বককে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সহায়ক। প্রতিদিন আমাদের ১০০ মাইক্রোগ্রাম সেলেনিয়াম প্রয়োজন। ভিটামিন সমৃদ্ধ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্রিম ব্যবহারেও ভাল ফল পাওয়া যায়। মেছতার দাগের জন্য হাইড্রোকুইনন যুক্ত ক্রিম উপকারী। ব্রণের জন্য ট্রিটিনইন রেটিন-এ জেল ভাল কাজ দেয়। এছাড়া ইদানিং আলফা হাইড্রক্সি এসিডযুক্ত ক্রিম পাওয়া যায়। এই ক্রিমের গুণাগুণ অনেক। ত্বকের মরা কোষ সরিয়ে দেয় আলফা হাইড্রক্সি। এতে ত্বক সতেজ হয়ে উঠে। এ ছাড়া রোদে পোড়া ত্বক, বলিরেখা, ব্রণ, যেকোনো সমস্যার জন্য আলফা হাইড্রক্সি ভালো কাজ দেয়। স্বাভাবিকভাবে নানারকম ফল যেমন আনারস, কমলা, আপেল, আঙ্গুর এগুলোতে আলফা হাইড্রক্সি থাকে। ত্বকে যেকোনো ক্রিম-লোশন ব্যবহারের আগে ডার্মাটোলোজিস্টের পরামর্শ নিলে ভাল। তবে যেকোনো চিকিৎসকের পরামর্শ অন্ততঃপক্ষে নেয়া প্রয়োজন। চটকদার বিজ্ঞাপনে উৎসাহী হয়ে ত্বকে কিছু ব্যবহারের আগে একটু সময় নিন। সবশেষে সেই একই কথা আবার বলছি, সুন্দর ত্বকের জন্য রোদ এড়িয়ে চলা, সুষম খাদ্য গ্রহণ, ধূমপান না করা, প্রচুর পানি পান ও নিয়মিত ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
সুন্দর ত্বকের জন্য